WhatsApp-এ ব্যক্তিগত, নিরাপদ এবং সুরক্ষিত কমিউনিটি গড়ে তোলা

ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত গ্রুপের জন্য আমরা WhatsApp-এ কমিউনিটি তৈরি করছি যেখানে কথোপকথন সাজাতে এবং ম্যানেজ করতে আরও টুলের প্রয়োজন। এই ধরনের গ্রুপের মধ্যে মূলত একটি কানেকশন থাকে যেখানে লোকজন একে অপরকে চেনে এবং একই ধরনের ভালো লাগা বা পছন্দের উপরে সংগঠিত হয়েছে।
স্কুলের পড়া ছেলে মেয়েদের অভিভাবকেরা, স্থানীয় ক্লাব, এমনকি ছোটখাট কাজের জায়গাও এখন লোকজনকে আপ-টু-ডেট রাখার প্রধান উপায় হিসেবে WhatsApp-এর উপরে নির্ভর করে। এইসব গ্রুপের কথোপকথনের জন্য ব্যক্তিগত মাধ্যমের প্রয়োজন যা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আলাদা কিন্তু রিয়েল-টাইম কথোপকথন চালাতে ইমেল বা ব্রডকাস্ট চ্যানেলের থেকে বেশি টুল প্রদান করে।
WhatsApp-এ প্রত্যেক কমিউনিটির কেন্দ্রতে আছে গ্রুপের বর্ণনা এবং মেনু যেটি দেখে লোকজন যোগ দেবেন কিনা তা বেছে নিতে পারবেন। এটি বিভিন্ন বৃহৎ এবং জটিল গ্রুপের মধ্যে কথোপকথনকে একটি পরিকাঠামো প্রদান করে ও সংগঠিত করে যাতে লোকজন তাদের পছন্দের বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারেন। এইসব গ্রুপ যাতে WhatsApp-এ ব্যক্তিগত, নিরাপদ ও সুরক্ষিতভাবে কথোপকথন চালাতে পারে সেই জন্য আমরা একাধিক আপডেট আনছি যা নিচে দেওয়া নীতি অনুযায়ী হবে।
অ্যাডমিনকে ক্ষমতা প্রদান করা
সব অ্যাডমিন যাতে তাদের ব্যক্তিগত গ্রুপের মধ্যে কথোপকথন ম্যানেজ করতে পারেন তার জন্য আমরা নতুন টুল বানাচ্ছি। WhatsApp-এ কমিউনিটি তৈরি ও ম্যানেজ করার দায়িত্ব অ্যাডমিনরাই পালন করে। তারা নতুন গ্রুপ তৈরি করে অথবা আগে থেকে থাকা গ্রুপকে লিঙ্ক করে, কোন গ্রুপ তাদের কমিউনিটির অংশ হবে তা বেছে নিতে পারবেন। কমিউনিটির অ্যাডমিনদের কাছে কমিউনিটি থেকে গ্রুপকে আনলিঙ্ক করার ও কমিউনিটি থেকে কোনও সদস্যকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে। এছাড়াও, গ্রুপের অ্যাডমিন কোনও গ্রুপের সকল সদস্যের জন্য অনুপযুক্ত অথবা আপত্তিজনক চ্যাট অথবা মিডিয়া বাদ দিতে পারবেন। এই নতুন বৈশিষ্ট্য অ্যাডমিনরা কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবেন, সেই বিষয়ে আমরা রিসোর্স প্রদান করব।
ব্যবহারকারীদের চ্যাটের উপরে আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়া
অ্যাডমিনদের নতুন টুল দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীরাও যাতে কমিউনিটির মধ্যে নিজেদের ইন্টার‍্যাকশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন সেই ব্যবস্থাও করা হবে। আমাদের আগে থেকে থাকা সেটিংস অনুযায়ী ব্যবহারকারী ঠিক করতে পারবেন যে কারা তাদের গ্রুপে যোগ করবেন এবং এই সেটিংস কমিউনিটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ব্যবহারকারীরা সহজেই অপব্যবহারের বিষয়ে রিপোর্ট করতে, অ্যাকাউন্ট ব্লক করতে এবং যে কমিউনিটিতে তারা থাকতে চান না সেটি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। আমরা কাউকে না জানিয়ে গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আসার সুবিধাও যোগ করেছি যাতে কেউ যদি মনে করেন, যে গ্রুপে তাকে যোগ করা হয়েছে সেই কথোপকথন তার জন্য প্রয়োজনীয় নয় তাহলে তিনি গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গেলেও কাউকে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হবে না।
সাইজ, খোঁজা এবং ফরোয়ার্ড করা এগুলিকে সীমিত করা
অন্য সব অ্যাপ গ্রুপ চ্যাটের জন্য কোনও নির্দিষ্ট সীমা সেট না করলেও WhatsApp এই বিষয়ে নজর দিচ্ছে যেন প্রোডাক্টের উন্নয়ন সংগঠনের এবং অন্যান্য গ্রুপের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে হয় যেখানে থাকা বহু লোকজন একে অপরকে আগে থেকেই চেনেন। সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্য মেসেজিং পরিষেবার মতন, WhatsApp আমাদের পরিষেবাতে নতুন কমিউনিটি খোঁজার বা দেখার সুবিধা প্রদান করবে না।
অতিরিক্ত মেসেজিং এবং ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ করতে, শুধুমাত্র অ্যাডমিনরাই সব কমিউনিটির সদস্যদের মেসেজ পাঠাতে পারবেন, এটিকে কমিউনিটির ঘোষণার গ্রুপ বলা হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা কমিউনিটির ঘোষণার সুবিধা কয়েক হাজার ব্যবহারকারীর জন্য সাপোর্ট করব। কমিউনিটির সদস্যরা, অ্যাডমিনের তৈরি করা অথবা অনুমোদন দেওয়া ছোট গ্রুপে চ্যাট করতে পারবেন। আগামীদিনে অ্যাডমিন এবং ব্যবহারকারীদের আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার সাথে সাথে আমরা গ্রুপের সাইজ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।
কথোপকথন ব্যক্তিগত রাখতে, আমরা WhatsApp-এ ফরোয়ার্ড করার বিষয়টি সীমিতই রাখব। কমিউনিটি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই, আগে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে এমন সব মেসেজ একবারে শুধুমাত্র একটি গ্রুপেই ফরোয়ার্ড করা যাবে, অর্থাৎ বর্তমানে পাঁচ বার ফরোয়ার্ড করার সীমা আর থাকবে না। আমরা মনে করি এর ফলে কমিউনিটির মধ্যে ক্ষতিকর ভুল তথ্য ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এবং ফোন নম্বরের গোপনীয়তা
এই সকল ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত কমিউনিটির মধ্যে ব্যক্তিগত চ্যাটের গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে, WhatsApp এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের মাধ্যমে মেসেজ সুরক্ষিত রাখার কাজ চালিয়ে যাবে যাতে নির্দিষ্ট গ্রুপের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ সেগুলি দেখতে না পারে। এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, কাজের জায়গা এবং ব্যক্তিগত গ্রুপের মধ্যে হওয়া সংবেদনশীল কথোপকথন সুরক্ষিত রাখে।
ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সুরক্ষিত করার জন্য, আপনার ফোন নম্বর কমিউনিটিতে গোপন রাখা হবে এবং শুধুমাত্র কমিউনিটির অ্যাডমিনরা এবং আপনার সাথে একই গ্রুপে থাকা ব্যক্তিরা দেখতে পাবেন। এর ফলে যে কেউ আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন না এবং ফোন নম্বর টুকে নেওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।
অপব্যবহারকারী কমিউনিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া
এই নতুন ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রণ কমিউনিটির অ্যাডমিনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে যাতে তাদের গ্রুপের মধ্যে কোনও সমস্যা হলে তারা সেটির সমাধান করতে পারেন, যেহেতু তারা সেই গ্রুপকে ভালোভাবে চেনেন। এছাড়াও সমস্যা তৈরি করছে এমন কমিউনিটি ও মেসেজের বিষয়ে আমাদের সরাসরি রিপোর্ট করতে আমরা ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করা চালিয়ে যাব।
আমরা যদি জানতে পারি যে কোনও কমিউনিটি অপব্যবহারমূলক কাজ যেমন শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রচার করা বা হিংসা ছড়ানো অথবা মানুষ পাচারের মতো কাজে লিপ্ত আছে তাহলে WhatsApp সেই কমিউনিটির প্রত্যেক সদস্যকে অথবা অ্যাডমিনদের নিষিদ্ধ করবে, কমিউনিটিকে ভেঙ্গে ফেলবে অথবা কমিউনিটির সকল সদস্যকে নিষিদ্ধ করবে। আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য, কমিউনিটির নাম, বর্ণনা এবং ব্যবহারকারীর রিপোর্ট সহ এনক্রিপ্ট করা নেই এমন সব উপলভ্য তথ্যের উপর নির্ভর করব।
WhatsApp আগামী দিনে তাদের কমিউনিটির জন্য সাপোর্ট প্রদান করে যাবে এবং আমরা কীভাবে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগতভাবে, নিরাপদে ও সুরক্ষিতভাবে কানেক্ট করতে সাহায্য করতে পারি সেই বিষয়ে ব্যবহারকারীদের দেওয়া মতামত আমরা মনোযোগ সহকারে শুনব।
এটি কি সহায়ক ছিল?
হ্যাঁ
না